মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ^বিদ্যালয় কলেজে দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ম, শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দীর্ঘকাল ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে পরিচালনার ফলে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থেকে কলেজ চলাকালে বাইরে আড্ডা এবং ব্যক্তিগত কাজে লিপ্ত থাকেন, যা কলেজের শিক্ষার পরিবেশকে চরম সংকটে ফেলেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজটিতে ৬২ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োজিত থাকলেও অনার্স শাখার বেশির ভাগ বিভাগে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নামমাত্র। পাঠদান কার্যক্রম অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী কলেজমুখী হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি কলেজ চলাকালে অনেক বিভাগ তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর কলেজটি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়ালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও অস্থিরতা প্রকট হয়েছে। সাবেক অধ্যক্ষের অবসরের পর বারবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরিবর্তন হওয়ায় চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী জানান, জবাবদিহিতা না থাকায় যে যার মতো কলেজ পরিচালনা করছেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হান্নান দরিয়া কলেজের এসব অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও বাধার কারণে কঠোরব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত একজন স্থায়ী ও দক্ষ অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধ না করলে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি মুখ থুবড়ে পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সাইফ-উল-আরেফীন জানান, কলেজের অনিয়ম ও শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগগুলো আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সবধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

