× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

চাহিদার দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৬:৫৬ এএম

চাহিদার দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মেহেরপুর জেলার খামারগুলোয় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কোরবানির পশু সরবরাহের লক্ষ্যে দিনরাত গবাদিপশুর যতœ ও পরিচর্যায় নিয়োজিত রয়েছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, মেহেরপুরে ছোটবড় প্রায় এক হাজার খামার রয়েছে। চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু। এর মধ্যে গরু ৫৩ হাজার ৩৪৯টি, যার মধ্যে ষাঁড় ৪০ হাজার ৩৪৯টি, বলদ চার হাজার ৮৪৪টি এবং গাভি আট হাজার ৫০৯টি। এ ছাড়া মহিষ রয়েছে ৪৮২টি, ছাগল এক লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া দুই হাজার ৭২০টি।

অন্যদিকে, জেলায় কোরবানির মোট চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশুর। সেই হিসাবে ৮২ হাজার ৩৩৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকছে, যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা ও পাইকাররা খামারগুলোতে আসতে শুরু করেছেন।

খামারিরা জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশে খৈল, ভুষি ও সবুজ ঘাস খাইয়ে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। যদিও গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, তবু ভালো দামের পাওয়ায় ব্যাপারে তারা আশাবাদী। খামারগুলোতে দেড় লাখ থেকে শুরু করে ১০-১২ লাখ টাকা মূল্যের গরুও রয়েছে। বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারগুলোও নিজ উদ্যোগে পশু পালন করছেন।

গাংনী উপজেলার খামারি মানজারুল ইসলাম বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বাইরের জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব। তবে সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ভারত থেকে চোরাইপথে গরু প্রবেশ বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, খরচ বেড়েছে, তবু লাভের আশায় খামারিরা কাজ করছেন।

বানিয়ারপুকুর গ্রামের গ্রিন রেইনবো এগ্রো ফার্মের কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তাদের খামারে ৪৫টি ছোটবড় গরু রয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য দুই লাখ থেকে ১০-১২ লাখ টাকা পর্যন্ত। ইতোমধ্যে কয়েকটি গরু বিক্রি হয়েছে এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা যোগাযোগ করছেন।

মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, জেলাটি প্রাণিসম্পদে সমৃদ্ধ। এখানে প্রায় সাত লাখ গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন পশু রয়েছে। এক হাজারের বেশি খামারের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কোরবানি কেন্দ্র করে পশু পালন করা হয়। এ বছর প্রায় পৌনে দুই লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যার বড় একটি অংশ জেলার বাইরে সরবরাহ করা হবে।

তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় চোরাইপথে গরু প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সতর্ক রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বাড়লেও খামারিরা এবার লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মেহেরপুর জেলায় কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে এ খাতটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!