আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। ধর্মীয় এই উৎসবকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে পশুর হিসাব-নিকাশ ও বাজার প্রস্তুতি। উপজেলার বিভিন্ন সাপ্তাহিক হাটে গরুর সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি বাইরের ব্যবসায়ীদের আগমনও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাড়া-মহল্লায় গরু ব্যবসায়ীদের যাতায়াত বেড়েছে কয়েকগুণ। স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা এবারের কোরবানির বাজারে ভালো দাম পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর সংকট নেই। দিনরাত পরিশ্রম করে লাভের আশায় দেশীয় পদ্ধতিতে এসব পশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা। চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি থাকায় এবার দামও ক্রেতাদের নাগালে থাকার আশা করা হচ্ছে। তবে খামারিরা বলছেন, এবার গরু পালনে খরচ বেশি হওয়ায় দামও কিছুটা বেশি হবে। কোরবানিকে সামনে রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বেপারিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশুর দরদাম করছেন। অন্যদিকে ঈদ ঘিরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার একমাত্র শরৎনগর পশুর হাটে সরবরাহ বেড়ে গেছে। সেভাবে বেচাকেনা জমে না উঠলেও বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবারও জমজমাট হবে কোরবানির পশুর বাজার।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ২৬ হাজার ৮৮৭টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে ৩৯ হাজার ৬৪৬টি উদ্বৃত্ত রেখে মোট ৬৬ হাজার ৫৩৩টি কোরবানির পশু স্থানীয়ভাবে পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ১৫ হাজার ২৫৮টি, বলদ ১৬১৫, গাভী ৫ হাজার ৪৯৩, গরু ২২ হাজার ৩৬৬, মহিষ ১২৪, ছাগল ৩৭ হাজার ৭৩৬, ভেড়া ৬ হাজার ৩০৭টি। প্রতি বছরের মতো এবারও স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বেশি পশু আছে এ উপজেলায়।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার খামারিরা জানান, প্রায় এক বছর ধরে শুধু ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি ও স্থানীয় পশুখাদ্য ব্যবহার করে পশুগুলোকে সুস্থ এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত এসব পশু দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করা হবে। ঈদের এক মাসের কম সময় থাকলেও এখন থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় গরুর আধিপত্য না থাকলে তারা লাভবান হবেন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছরে গো-খাদ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় কোরবানির পশুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে ধারণা তাদের।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. রুমানা আকতার রোমি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কোরবানিতে স্থানীয় পশু দিয়েই শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এমন কোনো গ্রাম খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে খামার নেই। খামারি ও আমাদের কর্মকর্তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ গবাদি পশুর মাংস উৎপাদনে পশু হৃষ্টপুষ্টকরণের ব্যাপারে খামারিদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

