মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সচল হতে শুরু করেছে টেকনাফ স্থলবন্দর কেন্দ্রিক সীমান্ত বাণিজ্য। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে এই বন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে নিত্যপণ্য রপ্তানি শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে ৬৫ মেট্রিক টন আলুর একটি চালান নিয়ে একটি কাঠের বোট মিয়ানমারের উদ্দেশে টেকনাফ বন্দর ছেড়ে যায়।
দীর্ঘদিন পর রপ্তানি শুরু হওয়ায় টেকনাফ বন্দরের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্যে যে স্থবিরতা ছিল, তা দ্রুতই কেটে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টেকনাফ বন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান আলুর এই চালান মিয়ানমারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘মেসার্স ফারুক ট্রেডার্স’-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই ৬৫ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের জেরে গত বছরের এপ্রিল থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরের সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি এই অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। এর আগে গত ১ মে মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে একটি কাষ্ঠবোঝাই বোট টেকনাফ বন্দরে আসার মধ্য দিয়ে আমদানির দ্বার উন্মোচিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশ থেকে আলু রপ্তানির মাধ্যমে পুরোদমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হলো।
টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, বন্দরে পুনরায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রলারে পণ্য তোলার কাজ করছেন। ধীরে ধীরে সীমান্ত বাণিজ্য পুরোদমে চালু হবে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রপ্তানিকারক ওমর ফারুক বলেন, সরকারের সহযোগিতায় দীর্ঘ এক বছর পর বাণিজ্য শুরু হওয়া আমাদের জন্য স্বস্তির। তবে কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ব্যাংকিং জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।

