বগুড়ার ধুনট সদর ইউনিয়নের সরকারি ডিগ্রি কলেজের পেছনে অবস্থিত মালোপাড়া গুচ্ছ গ্রামে মাদক ব্যবসা ও সেবনের আসর দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সন্ধ্যা নামলেই সেখানে বসছে মাদক কেনাবেচা ও প্রকাশ্যে মাদক সেবনের রমরমা আসর। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবৈধ কর্মকা- চললেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালোপাড়া গুচ্ছ গ্রামের পাশের বিশাল ভুট্টাখেতের ফাঁকা জায়গাগুলো এখন মাদকসেবীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল ও সিএনজিযোগে বখাটে যুবক ও মাদক কারবারিরা সেখানে জড়ো হয়। রাত যত বাড়ে, মাদকের আড্ডাও তত জমে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় এই সিন্ডিকেটটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের কর্মকা-ের প্রতিবাদ করতে বা মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন।
মাদকের এই ভয়াল ছোবলে এলাকার তরুণসমাজ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষক বলেন, সরকারি কলেজের ঠিক পেছনের এলাকা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই কিশোর ও যুবকদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। পরিবার ও সমাজকে বাঁচাতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিকে মাদকসেবীদের বেপরোয়া আচরণের কারণে মালোপাড়া এলাকার নারীরা সন্ধ্যার পর ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়রা জানান, মাদক কারবারিদের দাপটে অনেক সময় সাধারণ পথচারীরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। তারা অবিলম্বে এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল এবং সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ধুনট থানার এসআই ওসমান গনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স-নীতি গ্রহণ করেছি। মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। মালোপাড়া গুচ্ছগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পুলিশের নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হবে।

