× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

২ কোটি টাকার সড়কের কাজে নানা অনিয়ম

নাজমুল হুদা নয়ন, শেরপুর

প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬, ০৬:৫১ এএম

২ কোটি টাকার সড়কের কাজে নানা অনিয়ম

বগুড়ার শেরপুরে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যথাযথ তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। ২ কোটি ৬৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। ২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া এই কাজ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরলেও শুরুতেই অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুপাশের কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে সড়কে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। এছাড়া বিটি বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও গত রোববার সড়কের বিভিন্ন অংশে পচা কাদামাটি ফেলতে দেখা যায়। এতে গ্রামবাসী বাধা দিলে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের লোকজনের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি হয় এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, সড়ক খুঁড়ে রাখায় যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঘোড়দৌড় এলাকার বাসিন্দা শাকিল ও সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের প্রধান সড়ক। ঠিকাদার নিয়ম মানছেন না, প্রতিবাদ করেও কোনো ফল পাচ্ছিলাম না, তাই কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।’

কৃষক আব্দুর রাজ্জাক আক্ষেপ করে বলেন, ‘মাঠের ধান-ভুট্টা বাড়িতে আনতে পারছি না। সড়ক খুঁড়ে রাখায় শ্রমিকদের দিয়ে মাথায় করে ফসল নিতে হচ্ছে, এতে অতিরিক্ত মজুরি দিতে গিয়ে আমরা লোকসানে পড়ছি।’

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সড়কের পাশে পুকুর ও ডোবা থাকলেও কোনো গাইড ওয়াল বা সুরক্ষা দেওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে না। এতে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি ভেঙে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

জানতে চাইলে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সাইট ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমেদ বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। খুব দ্রুত মানসম্পন্ন বালু ব্যবহার করে আবার কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে, উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আসাফুদ্দৌলা বিপ্লব লোকবলের সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকি করতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মূল ঠিকাদার নিজে কাজ না করে অন্য একজনকে দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করাচ্ছেন, যার ফলে গুণগত মান বজায় থাকছে না।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, সড়ক নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। গুণগত মান নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!