ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মহাসড়কে ডাকাতি করা গরুর মাংস যেত ঢাকার সুপারশপে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৮:১৬ এএম

সিরাজগঞ্জে দীর্ঘ এক বছর পর চাঞ্চল্যকর এক গরু ডাকাতি মামলার জট খুলেছে সলঙ্গা থানার পুলিশ। মহাসড়কে ফিল্মি কায়দায় গরুবাহী ট্রাক ছিনতাই করে সেই গরু রাতের আঁধারে জবাই করা হতো। পরে সেই মাংস সরবরাহ করা হতো রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপারশপে। এই ভয়ংকর চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধান আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত বছরের এপ্রিলে কোরবানির ঈদের আগে চট্টগ্রামের বাসিন্দা আমানুল্লাহ উত্তরবঙ্গ থেকে ১৪টি বড় ষাঁড় কিনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কে একটি পিকআপ দিয়ে তাদের ট্রাকের গতি রোধ করে ১২ জনের একদল ডাকাত। চালক, হেল্পার ও রাখালকে অস্ত্রের মুখে হাত-পা বেঁধে গরুসহ ট্রাকটি ছিনতাই করে তারা পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন মামলার কূলকিনারা না হওয়ায় হতাশায় ছিল ভুক্তভোগীরা।

সম্প্রতি সলঙ্গা থানার পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার আশুলিয়া থেকে মানিকগঞ্জের কুখ্যাত ডাকাত হাসান ওরফে রিপনকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানায়, ছিনতাই করা ১৪টি গরু সরাসরি নেওয়া হয় আশুলিয়ার এনায়েতপুরের একটি খামারে। সেই খামারের মালিক জিয়া মূলত রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপারশপে মাংস সরবরাহ করতেন। জিয়া চোরাই গরুগুলো কিনে দ্রুত জবাই করে মাংস হিসেবে বাজারজাত করে দিতেন। ফলে আলামতও দ্রুত মুছে যেত।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মাংস সরবরাহকারী চক্রের প্রধান জিয়া ও তার সহযোগী আলিমকে গ্রেপ্তার করেছে। ডাকাত রিপন আদালতে জবানবন্দি দিয়ে চক্রের বাকি ৯ জনের নাম প্রকাশ করেছে।

সলঙ্গা থানার ওসি মো. এনামুল হক জানান, এই চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।