ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মরিচ চাষে ঘুরছে কৃষকের ভাগ্য

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৬:২৯ এএম

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা এলাকার কৃষক খোরশেদ আলম চলতি মৌসুমে তামাক চাষে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। তবে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তিনি বেছে নেন মরিচ চাষ। আর তাতেই মিলেছে সাফল্য। কম খরচে বেশি লাভ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার তার মরিচ খেতে হয়েছে বাম্পার ফলন। এখন প্রতিদিন খেত থেকে মরিচ তুলে বাজারজাত করে লাভের মুখ দেখছেন তিনি।

কাকিনা মহিমারঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে লিজ নেওয়া ৩৩ শতাংশ জমিতে বিজলি প্লাস, নাগা ফায়ার ও স্থানীয় বিত্রি জাতের মরিচের চাষ করেন খোরশেদ। বর্তমানে খেতজুড়ে কাঁচা, আধাপাকা ও টকটকে লাল মরিচের সমারোহ। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে তার উৎপাদিত মরিচ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, খোরশেদের পরিবারের সদস্যরা মরিচ সংগ্রহ, শুকানো ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুকনো মাটির ওপর পাটি বিছিয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে পাকা লাল মরিচ। বাজারে শুকনো মরিচের দাম বেশি হওয়ায় বাড়তি লাভের আশায় এ পদ্ধতি অনুসরণ করছেন তারা।

কৃষক খোরশেদ আলম জানান, এ বছর তামাক চাষে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই ওঠেনি। পরে বিকল্প হিসেবে মরিচ চাষ শুরু করেন। ৩৩ শতাংশ জমিতে তিন জাতের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মরিচ গাছ লাগিয়েছিলেন। গাছ লাগানোর ৪০ দিনের মধ্যেই ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কেজি মরিচ সংগ্রহ করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দুই মাস ধরে বাজারে মরিচ বিক্রি করছি। বিভিন্ন এলাকার পাইকার এসে খেত থেকেই মরিচ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি। প্রতিদিন তিন হাজার থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় মরিচ চাষে আগ্রহ বেড়েছে।’

স্থানীয় কৃষকরাও খোরশেদের সফলতা দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন। এলাকাবাসী জানান, অতিরিক্ত লাভের আশায় প্রতিবছর অনেকেই তামাক চাষ করলেও এবার অধিকাংশ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে মরিচ চাষে কম খরচ, ভালো ফলন ও বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মরিচের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খোরশেদের সফলতা দেখে অনেক কৃষক এখন মরিচ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ইতোমধ্যে ৬০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে ফলন ভালো হয়েছে। উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন মরিচ চাষের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানান তিনি।