লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা এলাকার কৃষক খোরশেদ আলম। চলতি মৌসুমে তামাক চাষ করতে গিয়ে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছিল তাকে। উৎপাদন খরচ না ওঠায় যখন চরম বিপাকে, ঠিক তখনই তামাকের বিকল্প হিসেবে মসলাজাতীয় ফসল চাষের সিদ্ধান্ত নেন। কাকিনা মহিমারঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে লিজ নেওয়া ৩৩ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করে এবার রীতিমতো বাজিমাত করেছেন তিনি। বাজারে ভালো দাম ও কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তামাকের ক্ষতি পুষিয়ে তার সুদিন ফিরতে শুরু করেছে।
অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে খোরশেদের জমিতে বিজলি প্লাস, নাগা ফায়ার ও স্থানীয় বিত্রি জাতের মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে তার খেতের গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কাঁচা, আধাপাকা ও টকটকে লাল রঙের পাকা মরিচ। পরিবারের সদস্যরা এখন খেত থেকে মরিচ তোলা এবং তা উঠোনে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এই মরিচ এখন পাইকারদের হাত ধরে পৌঁছে যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে।
মরিচচাষি খোরশেদ আলম বলেন, তামাক চাষ করে এবার কপাল পুড়েছিল। তাই লিজ নেওয়া জমিতে তিন জাতের প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মরিচের চারা রোপণ করি। গাছ লাগানোর মাত্র ৪০ দিন পর থেকেই ফলন আসতে শুরু করেছে। এখন প্রতিদিন খেত থেকে ৪৫ কেজি করে মরিচ তুলছি। পাইকাররা সরাসরি খেতেই চলে আসছেন। বর্তমানে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করে দৈনিক ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা আয় হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মরিচ শুকিয়ে বিক্রি করলে বাড়তি দাম পাওয়া যায়, তাই লাল মরিচগুলো রোদে শুকানোর কাজও চলছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ক্ষতিকর তামাক চাষে এবার তাদের উৎপাদন খরচই ওঠেনি। তবে খোরশেদের মরিচ খেতের বাম্পার ফলন ও নিয়মিত ভালো আয় দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামীতে তারাও তামাকের ক্ষতিকর আবাদ ছেড়ে উচ্চমূল্যের মরিচ চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মরিচের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা নিয়মিত মাঠে গিয়ে খোরশেদসহ অন্য কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, চলতি বছর উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। মরিচ যেহেতু উচ্চমূল্যের ফসল, তাই আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে এর ফলন আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। ক্ষতিকর তামাক চাষের চেয়ে কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকেরা দিন দিন মরিচ চাষের দিকে ঝুঁকছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

