সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় শখের বসে গড়ে তোলা একটি ছোট খামার এখন রূপ নিয়েছে সফল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী উদ্যোক্তা তাজ উদ্দিনের প্রতিষ্ঠিত ‘মা এগ্রো ফার্ম’ থেকে বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারটিতে প্রস্তুত করা হয়েছে বিভিন্ন আকারের ক্রস-ব্রিড জাতের গবাদিপশু। এর মধ্যে তিনটি সাইওয়ান ক্রস-ব্রিড গরু বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, এর একটি এ বছর উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু হতে পারে।
সরেজমিনে পৌরসভার হরিকলস গ্রামে অবস্থিত ‘মা এগ্রো ফার্ম’-এ গিয়ে দেখা যায়, খামারজুড়ে ছোট-বড় বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। কয়েকটি ক্রস-ব্রিড গরু আকারে বড় হওয়ায় দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। গরুগুলোর পরিচর্যায় তিনজন প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়মিতভাবে কাজ করছেন। তারা নিয়মিত সাইলেজ, ভুসি, খৈল ও সবুজ ঘাস খাওয়ানোর পাশাপাশি খামারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখছেন।
খামার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে ঘরের একটি গাভীর বাছুর দিয়ে খামারের যাত্রা শুরু হয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী তাজ উদ্দিনের উদ্যোগে শুরু হওয়া এ খামারের দায়িত্ব নেন তার সহোদর সালা উদ্দিন। শুরুতে দেশি জাতের গরু পালন করা হলেও পরে তারা ক্রস-ব্রিড গরু পালনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বর্তমানে খামারটিতে বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে খামারে প্রায় ৩০টি ছোট-বড় গরু রয়েছে। এবারের কোরবানির ঈদে প্রায় কোটি টাকার বিক্রির আশা করছেন খামার মালিকরা।
খামার পরিচালক সালা উদ্দিন বলেন, ‘এবার ঈদে আমাদের খামারে উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু রয়েছে বলে ধারণা করছি। বড় গরুর দাম প্রায় ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ক্রেতাদের খামারে এসে গরুগুলো দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।’ খামার মালিক তাজ উদ্দিন বলেন, ‘গরু পালন আমার শখ ছিল, সেই শখ থেকেই শুরু। এখন এটি বড় পরিসরে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস শহীদ বলেন, ‘শুরুতে তারা দেশি জাতের গরু পালন করলেও এখন উন্নত জাতের ক্রস-ব্রিড গরু পালন করছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে খামারটি পরিচালিত হচ্ছে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ভালো বেচাকেনার সম্ভাবনা রয়েছে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন