ময়মনসিংহের নান্দাইলে ‘পেট আছে কিন্তু ভুঁড়ি নেই’Ñ এমন অদ্ভুত ও বিকৃত শারীরিক গঠন নিয়ে একটি বাছুরের জন্ম হয়েছে। বাছুরটির অন্ত্র বা ভুঁড়ি দেহের ভেতরে থাকার কথা থাকলেও তা চামড়ার তৈরি একটি থলিতে পেটের নিচে ঝুলছে। বিচিত্র এই বাছুর নিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন এর মালিক কৃষক দীন ইসলাম।
উপজেলার চ-ীপাশা ইউনিয়নের খামারগাঁও গ্রামের কৃষক দীন ইসলামের একটি গাভি গত ১১ জানুয়ারি এই লাল রঙের ষাঁড় বাছুরটির জন্ম দেয়। জন্মের পর দেখা যায়, বাছুরটির সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও পরিপাকতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘অন্ত্র’ পেটের ভেতরে নেই। পরিবর্তে পাতলা চামড়া দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সেটি পেটের নিচে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে তিন মাস বয়সি বাছুরটি যতই বড় হচ্ছে, ঝুলে থাকা ভুঁড়িটিও তত ভারী হয়ে যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিচিত্র এই বাছুর দেখতে প্রতিদিন দীন ইসলামের বাড়িতে ভিড় করছে উৎসুক মানুষ। একদিকে আদরের প্রাণিটির কষ্ট, অন্যদিকে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দরিদ্র এই কৃষক।
এদিকে আধুনিক চিকিৎসার জন্য কৃষক দীন ইসলাম বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলেও মেলেনি কোনো আশার বাণী। বাছুরটির মালিক জানান, স্থানীয় উপজেলা পশু চিকিৎসালয় থেকে তাকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাও জানিয়েছেন, বাছুরটিকে স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎ কেরা বাছুরটি কিছুটা বড় হলে ‘জবাই’ করে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন।
নান্দাইল উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মশিউর রহমান জানান, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘হার্নিয়া’ বলা হয়। বাছুরটির অন্ত্র দেহের বাইরে অবস্থান করছে। এখানে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বাকৃবিতে পাঠানো হয়েছিল।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু হাসপাতালের সিনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট কবিরুল ইসলাম কবির জানান, সাধারণত পেটের ভেতরে অন্ত্র ধরে রাখার যে পর্দা বা ‘ফেতরা’ থাকে, এই বাছুরের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত। পর্দা না থাকায় অপারেশন করে সেলাই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই জীবন বাঁচাতে বাছুরটি বড় হলে জবাই করাই একমাত্র সমাধান।

