ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জলাবদ্ধতায় বন্দি দুই বিদ্যালয়

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ০৩:২৫ এএম

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার জলাবদ্ধতায় বন্দি হয়ে পড়েছে দুটি বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক থাকলেও মাঠজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এমন চিত্র দেখা গেছে উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও তৎসংলগ্ন বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি থাকা দুটি বিদ্যালয়ের দীর্ঘ মাঠজুড়ে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। পাশের বাজার থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটি ছোট নদী বয়ে যাচ্ছে। পানিতে হাঁস ও মাছও সাঁতার কাটছে। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে আশপাশের ফসলি জমির পানি উপচে বিদ্যালয় মাঠ ও বারান্দায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফলে কমে গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যালয়ের পাশের সড়কের একটি কালভার্ট কয়েক মাস আগে ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা সেটি বন্ধ করে দেন। এরপর বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের জন্য বালু ফেলা হয়। কিন্তু নতুন কালভার্ট নির্মাণ না করেই আশপাশের জমিতে বসতবাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যে আরও বালু ফেলা হলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় পানি নিষ্কাশনের পথ। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জমে থাকা পানি আর নামতে না পারায় বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে শিশু-কিশোররা মোবাইল ফোন ও মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয়রা জানান, এই মাঠে প্রতিবছর দুই ঈদের নামাজ আদায় করতেন হাজারো মুসল্লি। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ এখানে আদায় করা যাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমিনা খাতুন রিতু, র”কাইয়া খাতুন, মায়া খাতুন এবং দশম শ্রেণির রমজান আলী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারছেন না। কোনোভাবে এলেও পিছলে পড়ে বই-খাতা, ব্যাগ ও ইউনিফর্ম ভিজে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূর ইসলাম ম-ল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে মশা, মাছি, জোঁক ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। দুর্গন্ধ ও পোকামাকড়ের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া পানিবাহিত জীবাণুর কারণে জ্বর, সর্দি, কাশি, অ্যালার্জি ও চুলকানিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি বলেন, বিদ্যালয়ের পাশের কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে কোনো কালভার্ট নির্মাণ না হওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্র”ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।