ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সুন্দরবনের ডাকাতদের আত্মসমর্পণের আহ্বান

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ০৩:২৬ এএম

সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সুন্দরবনে সক্রিয় সকল ডাকাতকে দ্র”ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে, অন্যথায় অপরাধীদের বির”দ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবন-এর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় পরিচালিত এসব অভিযানের লক্ষ্য হলো সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

কোস্ট গার্ড জানায়, গত ১২ ফেব্র”য়ারি ২০২৬ থেকে এখন পর্যন্ত অভিযানে ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ২১ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতায় দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।

গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে মোংলা থানা-অধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাতজন ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবার”দসহ আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।

আত্মসমর্পণকারী ডাকাতরা হলেনÑ সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) এবং মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। তাদের মধ্যে প্রথম ছয়জন মোংলা থানার এবং মাহফুজ মল্লিক রামপাল থানার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানায় কোস্ট গার্ড।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল কোস্ট গার্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কোনো অপপ্রচারই দস্যু দমন কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না।

কোস্ট গার্ড সকল সক্রিয় ডাকাতকে দস্যুবৃত্তি পরিহার করে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে যারা অপরাধমূলক কর্মকা- চালিয়ে যাবে, তাদের বির”দ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।