গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় বকেয়া বেতন, বাৎসরিক ছুটির টাকা, ইনক্রিমেন্ট ও ঈদকে সামনে রেখে পাওনা পরিশোধের দাবিতে দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলজুড়ে এ আন্দোলনের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, কোনাবাড়ীর জর”ন এলাকায় অবস্থিত কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা গত দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। প্রথমে গত ১৭ মে সন্ধ্যা থেকে ডাইং ও নিটিং সেকশনের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। পরে রোববার সন্ধ্যা থেকে কর্মবিরতি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ ২০ মে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো অর্থ প্রদান করা হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুইং সেকশনের শ্রমিকরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন। ফলে পুরো কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডাইং অপারেটর বলেন, ‘আমাদের গত দুই মাসের বেতন বকেয়া। ঈদ সামনে অথচ পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরব না।’
একাধিক সূত্র জানায়, শুধু শ্রমিকরাই নয়, কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দীর্ঘদিন ধরে বেতন সংকটে রয়েছেন। অনেক স্টাফের ১৫ থেকে ২০ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে, একই এলাকায় তমিজউদ্দীন টেক্সটাইল মিলস পিএলসির শ্রমিকরাও সকাল থেকে মূল ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবি, বাৎসরিক ছুটির টাকা, ইনক্রিমেন্ট এবং মে মাসের অর্ধেক বেতন ঈদের আগেই পরিশোধ করতে হবে।
এক শ্রমিক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অসুস্থ হলেও ছুটি দেয় না। বছরের পর বছর কাজ করেও ন্যায্য অধিকার পাচ্ছি না।’
পরিস্থিতি সামাল দিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশে জানিয়েছে, আগামী ২৪ মে ঈদুল আজহার বোনাস এবং বিটিএমএ ঘোষিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মে মাসের বেতন পরিশোধ করা হবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতির খবর পাওয়ার পর শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। ঈদকে সামনে রেখে বেতন-ভাতা পরিশোধ না হওয়ায় শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন