ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মাটির নিচ থেকে ধাতব গণেশ মূর্তি উদ্ধার

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০৬:৫৪ এএম

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে গাব পাড়তে গিয়ে মাটির নিচে ধাতব গণেশ মূর্তি পাওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক কেজি ওজনের সোনালি রঙের ওই মূর্তিটিকে ‘সোনা’ মনে করে তিন কিশোর হ্যাকসো ব্লেড দিয়ে কেটে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় কৌতূহল, রহস্য ও নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, এটি কোনো পুরোনো প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনও হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে গণিপুর গ্রামের আকরাম হোসেনের ছেলে সাজু হোসেন তার বন্ধু মিনহাজ ও রব্বানীকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি ম-পসংলগ্ন জঙ্গলে গাব পাড়তে যায়। গাছ থেকে নামার সময় সাজুর পায়ে মাটির নিচে শক্ত ধাতবজাতীয় কিছু অনুভূত হয়। পরে তিন বন্ধু মাটি খুঁড়ে সোনালি রঙের একটি গণেশ মূর্তি উদ্ধার করে।

প্রথমে তারা বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে মূর্তিটি স্বর্ণের হতে পারে এমন ধারণা থেকে ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। মূর্তিটি পুকুরের পানিতে ধোয়ার পর সাজু সেটি বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তিন বন্ধু মিলে হ্যাকসো ব্লেড দিয়ে মূর্তিটির মাথা ও কানের অংশ কেটে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে সাজুর পরিবারের সদস্যরা মিনহাজ ও রব্বানীর বাড়িতে গিয়ে কাটা অংশ ফেরত চাইলে পুরো ঘটনা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ ভিড় করেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মিনহাজ ও রব্বানী মূর্তিটির মাথা ও একটি কান নিজেদের কাছে রাখে। অপর একটি কান ও মূল দেহাংশ ছিল সাজুর কাছে। পরে সাজুর বড় ভাই সজিব মূর্তিটির অবশিষ্ট অংশ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যা ঘটনাকে ঘিরে রহস্য আরও বাড়িয়েছে।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন রেজা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মূর্তিটির প্রতœতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকতে পারে। সেটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।