দরিদ্র নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৭ দশমিক ৮ টন ভিজিডির চাল আত্মসাতের মামলায় যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল আক্তারকে ১৩ বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা চালের সমমূল্য ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫০৮ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার যশোরের বিশেষ দায়রা জজ ও বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত বাবুল আক্তার অভয়নগর এলাকার আতিয়ার গাজীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন বিচারক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ২৬০ জন দরিদ্র উপকারভোগীর জন্য মোট ৭ হাজার ৮০০ কেজি ভিজিডি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার সরকারি গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করলেও তা বিতরণ না করে সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করেন। এই ঘটনায় ইউপি সদস্যরা ইউএনওর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তে সত্যতা মেলে। পরে ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি অভয়নগর থানায় মামলা করেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রানী মজুমদার। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত গতকাল দ-বিধির ৪০৯ ধারায় বাবুল আক্তারকে ১০ বছর এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আরও ৩ বছরের সশ্রম কারাদ- দেন। উভয় ধারার সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১৩ বছর কারাদ- ভোগ করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত হওয়া চালের সমমূল্যের অর্থ আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করা হবে।

