লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় পাঁচ উপজেলাতেই বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও শেষ মুহূর্তে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। মৌসুমের একদম শেষদিকে এসে কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে নিচু এলাকার বেশ কিছু জমিতে পানি জমে গেছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে খেতের আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ৩৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে উফশি জাতে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৩ দশমিক ৮ টন এবং হাইব্রিড জাতে ৪ দশমিক ২ টন ধান উৎপাদন হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে সেচ সংকটের কারণে অনেক এলাকায় সময়মতো বোরো ধান রোপণ করা যায়নি। ফলে ধান পাকার এই শেষ সময়ে এসে তাদের ঝড়-বৃষ্টির মুখে পড়তে হয়েছে। কয়েক দফার বৃষ্টিতে নিচু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় ধানের শীষে চিটা রোগ দেখা দিয়েছে, যা ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সদর উপজেলার চররমনী মোহন এলাকার কৃষক আবদুল করিম জানান, এবার ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছিল। কিন্তু শেষ সময়ে আকস্মিক বৃষ্টির কারণে নিচু জমিতে পানি জমে যায়। তাই নিরুপায় হয়ে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে আধাপাকা ধানই কেটে ফেলতে হচ্ছে। তবে আংশিক ক্ষতি হলেও অন্তত চাষের মূল খরচটুকু উঠে আসবে বলে তিনি আশা করছেন।
এদিকে রায়পুর উপজেলার কৃষক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, চাষের শুরুতে সময়মতো সেচের পানি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনে সেচ দিতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এখন আবার ধান কাটার সময় শ্রমিকের মজুরিও আকাশচুম্বী। তবে ফলন ভালো হওয়ায় মনের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি কাজ করছে।
কৃষকরা জানান, বাজারে বর্তমানে তীব্র ধান কাটা শ্রমিকের সংকট চলছে। এক বেলা শ্রমিকের মজুরি দিতেই গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে কম সময়ে ধান কাটার আধুনিক হারভেস্টার মেশিনের খরচও অনেক বেড়েছে। গত বছর প্রতি একরে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় ধান কাটা গেলেও এবার একই কাজে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৭ হাজার টাকা।
সামগ্রিক বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জহির আহমেদ বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় ফলনও ভালো। এরই মধ্যে জেলার প্রায় ৬০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। আবহাওয়া আরও খারাপ হওয়ার আগেই আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জেলার বাকি বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হবে।

