ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

টিসিবির পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন

রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ০৬:৩৭ এএম

রাজশাহীতে টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের মসুর ডালের মান নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে নি¤œ আয়ের মানুষের মধ্যে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলায় জ¦াল দেওয়ার পরও ডাল সিদ্ধ না হওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক ভোক্তা। কেউ বলছেন ডাল শক্ত, কেউ বলছেন এতে পুরোনো ও নি¤œমানের দানা মেশানো রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত জ¦ালানি খরচের পাশাপাশি রান্না নিয়েও দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

রাজশাহী নগরের দরগাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা সুফিয়া বেগম মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলে সংসার চালান। গত ১১ মে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কেনেন তিনি। চাল, তেল ও চিনি নিয়ে কোনো সমস্যা না হলেও ডাল রান্না করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সুফিয়া বেগম বলেন, ‘এক ঘণ্টা জ¦াল দিয়েও ডাল সিদ্ধ করতে পারিনি। লাকড়ি-খড়ি শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু ডাল শুধু ছ্যাবড়া ছ্যাবড়া হয়েছে।’

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন দরগাপাড়া এলাকার নূরেসা বেগম। তিনি জানান, প্রথমে কাঠের চুলায় রান্না শুরু করলেও পরে গ্যাসের চুলায় নিতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় পর ডাল কিছুটা নরম হয়েছে।

নগরের কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার গৃহবধূ তাহেরা খাতুন বলেন, ‘ডাল দেখে মনে হয় অনেক পুরোনো। ভেতরে কালো দানা আর গমও আছে। প্রেশারকুকার ছাড়া এই ডাল সিদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করে পণ্য কিনছে। সরকার যখন দিচ্ছে, তখন অন্তত ভালো মানের পণ্য দেওয়া উচিত।’ টিসিবির একাধিক ডিলার জানিয়েছেন, কিছু ভোক্তার কাছ থেকে ডালের মান নিয়ে অভিযোগ এসেছে। রাজশাহীর মেসার্স দুলুফা স্টোরের ডিলার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ডাল খারাপ বলে কয়েকজন অভিযোগ করেছেন। তবে সরবরাহ করা পণ্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত টিসিবির।’ টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা মসুর ডাল প্রক্রিয়াজাত করে সরবরাহ করছে। গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলার জন্য প্রায় ৮ হাজার ৮০০ টন ডাল কেনা হয়েছে। এই অঞ্চলে টিসিবির ২৯৯ জন ডিলারের মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৭২ হাজার কার্ডধারীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে ডাল বিক্রি হচ্ছে।

ডাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বর্ষাকালে আবহাওয়া ও তাপমাত্রার প্রভাবে ডাল সিদ্ধ হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। রায় অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্ট ও জয়তুন অটোরাইস অ্যান্ড ডাল মিলের ব্যবস্থাপক পলাশ কুমার পোদ্দার বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ এবারই প্রথম শুনলাম। সাধারণত ফুটন্ত গরম পানিতে আধা ঘণ্টার মধ্যেই ডাল সিদ্ধ হওয়ার কথা।’ অন্যদিকে বানেশ্বরের বিসমিল্লাহ ফ্লাওয়ার অ্যান্ড ডাল মিলের ব্যবস্থাপক মো. সুমন বলেন, ‘আমরা ভালো মানের পণ্য দেওয়ার চেষ্টা করি। তার পরও কোথাও ত্রুটি হয়ে থাকলে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকব।’ টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিস প্রধান আতিকুর রহমান জানান, ডালের মান নিশ্চিত করতে গুদামে পণ্য আসার পর পরীক্ষা করা হয়। সম্প্রতি নি¤œমানের একটি চালান ফেরতও পাঠানো হয়েছে। তার পরও ভোক্তাদের কাছ থেকে ডাল সিদ্ধ না হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।