ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সিদ্ধান্ত পাল্টে আলোচনায় ফিরল ইরান

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান নতুন করে সংলাপে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশের আলোচনা ‘দ্রুতগতিতে’ এগিয়ে চলছে এবং খুব শিগগিরই একটি বড় চুক্তি হতে পারে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানায়, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল তেহরান। ইরানের অভিযোগ, গাজা ও লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্ত বারবার লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রও দায় এড়াতে পারে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অর্থ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন।’ একই সঙ্গে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত না হলে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হবে না। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন। তার দাবি, উভয় পক্ষই হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে এবং এ কারণে আলোচনার পথ আবারও খুলে গেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি সামরিক বিজয়ের চেয়েও বড় অর্জন হতে পারে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। এদিকে কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, এটি ছিল ‘প্রতিশোধমূলক বৈধ হামলা’। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এ জলপথ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। এদিকে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনা আবার শুরু হলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল। যেকোনো মুহূর্তে নতুন সংঘাত পুরো অঞ্চলকে আরও ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।