ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কৃষক কার্ডের অর্থ লেনদেনে অনিয়ম, তদন্ত কমিটি গঠন

জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৬:৩৯ এএম

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নে কৃষক কার্ডের অর্থ লেনদেনে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। অভিযোগে বলা হয়েছে, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তার অর্থ কৃষি উপকরণ সরবরাহ ছাড়াই ডিলারের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফুলতলা ইউনিয়নের ৬৭০ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরকারি সহায়তা জমা হয়। এ অর্থ দিয়ে কৃষকরা নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করার কথা ছিল। তবে গত ২৪ মে কৃষক কার্ডধারী মমতা ব্যানার্জী, নিরঞ্জন রবিদাস ও শেফালী নায়েক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তারা দাবি করেন, কৃষি উপকরণ নিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার তাদের কার্ড কার্যকর হয়নি বলে জানান। পরে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে তারা দেখতে পান, কার্ডে থাকা অর্থ ইতোমধ্যে ডিলারের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয়ে গেছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবিএম জহরুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ডিলারের পিওএস মেশিন জব্দ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, তদন্তে অভিযোগকারী তিন কৃষকের পাশাপাশি প্রায় ২০০টিরও বেশি কৃষক কার্ডের অর্থ লেনদেনে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু লেনদেন কৃষিপণ্যের পরিবর্তে নগদ অর্থে সম্পন্ন হয়েছে এবং তা ই-কমার্স পদ্ধতিতে মেসার্স মিজান স্টোরের হিসাবে স্থানান্তরিত হয়েছে।

সোনালী ব্যাংক জুড়ী শাখা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী কৃষকদের কার্ডের অর্থ পৃথক কয়েকটি লেনদেনের মাধ্যমে মেসার্স মিজান স্টোরের হিসাবে স্থানান্তরিত হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ডিলার ও মেসার্স মিজান স্টোরের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, কৃষকদের জন্য চালু করা কৃষক কার্ড কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।