রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে কয়েকটি লঞ্চে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী বহনের অভিযোগ উঠেছে। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পদ্মা নদী পারাপার করছেন যাত্রীরা। তবে ঘাটে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন। ঈদ-পরবর্তী সময়ে যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌরুটে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় দেখা যায়, কয়েকটি লঞ্চে নির্ধারিত আসনের তুলনায় অনেক বেশি যাত্রী বহন করা হচ্ছে। লঞ্চের ভেতর ও ডেকে ছিল উপচেপড়া ভিড়। দ্রুত কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপার করছেন।
ঘাট সূত্রে জানা যায়, এমভি আরাফাত লঞ্চের ধারণক্ষমতা ১৩০ জন হলেও প্রায় ২০০ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করেছে। একইভাবে এমভি ব্ল্যাকবার্ডে ১২১ জনের পরিবর্তে প্রায় ১৮০ জন এবং এমভি তিতাসে ১৪৮ জনের স্থলে প্রায় ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।
পাটুরিয়াগামী যাত্রী আরিফুল ইসলাম বলেন, লঞ্চের ডেক ও নিচতলায় গাদাগাদি করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আবহাওয়াও অনুকূলে নেই। যেকোনো সময় ঝড় হতে পারে। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?
আরেক যাত্রী রইচ উদ্দিন বলেন, অনেক লঞ্চে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামও চোখে পড়ে না। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। তারা নৌরুটে নজরদারি ও তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর টিম নিয়মিত তদারকি করছে।
নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজিদ হোসেন বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়াতে দায়িত্বরত সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা কাজ করছে।
ঈদ-পরবর্তী সময়ে যাত্রীর চাপ বাড়লেও নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের দাবি, দুর্ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

