কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদর থেকে জেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুলবাড়ী-কাঁঠালবাড়ি সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজ শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে সড়কটির সংস্কারকাজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সড়কটির নাওডাঙ্গা পুলেরপাড় বাজার থেকে বড়ভিটা বাজারসংলগ্ন প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামত (জিওবিএম) কর্মসূচির আওতায় এ প্রকল্পে ২ কোটি ৬ লাখ ১৩ হাজার ৪১৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম সদরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফ এইচ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত ২৪ মে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় সড়কটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ২০১৯ সালে সংস্কার করা হলেও তা ছিল অনেকটা দায়সারা। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন সাধারণ মানুষ। অবশেষে চলতি বছর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক মাস আগে সড়কের পুরোনো পিচ তুলে ফেলা হয়েছে। এরপর পাথর ও ইটের খোয়া বিছিয়ে সীমিত আকারে রোলিং করা হয়। এতে পুরো সড়কজুড়ে এবড়োখেবড়ো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ধুলাবালির কারণে পথচারীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
শাহবাজার এলাকার ভ্যানচালক মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কে এখন গাড়ি চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহন বিকল হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেক বেড়েছে।’
আরেক ভ্যানচালক সল্লু মিয়া বলেন, ‘সংস্কারের নামে পিচ তুলে রেখে মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়েছে। এতে আগের চেয়েও বেশি কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে।’
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক সুজাউদ্দৌলা বলেন, ‘এই সড়কটি ফুলবাড়ী উপজেলার হাজার হাজার মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ ফেলে রাখা হয়নি। কাজ শুরু হওয়ার পর কয়েক দফা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। সে কারণেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।’
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান বলেন, ‘কাজের অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। আগামী ১৪ জুনের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন