টানা কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালী শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার জনজীবন। প্রচ- রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা। মাঠে কাজ করতে গিয়ে তারা টানা এক ঘণ্টাও টিকতে পারছেন না। কিছুক্ষণ কাজ করেই গাছের ছায়া কিংবা খড়ের গাদার পাশে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। এতে কৃষিকাজের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি কমেছে শ্রমিকদের দৈনিক আয়ও। একই সঙ্গে তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে অসুস্থতার প্রবণতা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে রাস্তাঘাট, বাজার ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে দুপুরের পর তীব্র রোদ ও গরমে জনচলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।
দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের রিকশাচালক মো. আইয়ুব খান, দিনমজুর আবু জাফর মীরা এবং বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের কৌখালী গ্রামের ভ্যানচালক আরিফ জানান, গরমে দুপুরের দিকে যাত্রী ও কাজের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের দৈনিক আয়ও কমে গেছে। দীর্ঘসময় রোদে কাজ করা এখন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে বাউফল এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। গরম থেকে রক্ষা পেতে মানুষ বেশি করে ঠান্ডা পানি, শরবত ও মৌসুমি ফলমূল গ্রহণ করছেন।
এদিকে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গরমজনিত অসুস্থতা বেড়ে গেছে। তারা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যতœ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন