কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমের থাবায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে জনজীবন। সকাল গড়াতেই আগুনের হল্কা ছড়াচ্ছে সূর্য, আর তাতেই হাঁসফাঁস অবস্থা মানুষ থেকে শুরু করে পশুপাখির। একদিকে তীব্র তাপপ্রবাহে ঘরে ঘরে বাড়ছে জ¦র-সর্দির প্রকোপ, অন্যদিকে মাঠে টিকতে না পেরে চরম সংকটে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। গরমের এই চরম শিকারে বাদ যাচ্ছে না খামারিরাও; হিট স্ট্রোকে মারা যাচ্ছে মুরগি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই তীব্র রোদ ও গরমে একটু ছায়ার খোঁজে বড় গাছের তলায় খোলা গায়ে বসে আছেন। কেউ কেউ আবার গরম থেকে রেহাই পেতে ঘনঘন নদী, পুকুর, সেচ ও নলকূপের পানিতে গোসল করছেন। তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে কদর বেড়েছে আখের রস, তরমুজ, ডাব, কোমল পানীয় ও খাবার স্যালাইনের। একই সঙ্গে ফার্মেসিতে বেড়েছে জ¦র, সর্দি ও কাশির ওষুধের চাহিদা।
ফার্মেসিতে ওষুধ নিতে আসা শাহবাজার এলাকার রবিউল ইসলাম (৫৫) জানান, তিনি তীব্র গরমে হঠাৎ করে জ¦র, সর্দি, মাথাব্যথা ও কাশিতে ভুগছেন। ওষুধ খাচ্ছেন, তবে রোগ সহজে সারছে না।
সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের কৃষিশ্রমিক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে হাতে কাজ নাই বললেই চলে। মাঝেমধ্যে পাট ও শাকসবজির খেত নিড়ানি কাজের ডাক আসে। কিন্তু কাজে গিয়ে প্রচ- রোদে মাঠে টিকতে পারি না। দুই দিন আগে পাটখেত নিড়ানি দিতে গিয়ে জ¦রে আক্রান্ত হয়েছি। যে কয় টাকা কামাই করেছি, তা ওষুধ কিনতেই শেষ। এখন কাজে যেতে না পেরে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
তাপপ্রবাহে রিকশা, ভ্যান ও অটোচালকেরাও পড়েছেন বিপাকে। চারকেরা জানান, তীব্র গরমে সন্ধ্যার আগে মানুষ বাড়ি থেকে খুব একটা বের হচ্ছে না। ফলে তাদের আয়-রোজগার অনেক কমে গেছে। ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক সল্লু মিয়া বলেন, ‘আমি গাড়িতে করে ধান, ভুট্টা, বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি পরিবহন করি। গত কয়েক দিন ধরে গরমে গাড়ি নিয়ে বের হয়েও কাজে টিকতে পারছি না। বাজার খরচের টাকাও কামাই হয় না।’
এদিকে তীব্র গরমে হাঁস-মুরগির খামারিরাও রয়েছেন বড় লোকসানের ঝুঁকিতে। সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের ব্রয়লার খামারি আক্কাস আলী জানান, তিনি এক মাস পরপর খামারে বাচ্চা তোলেন। এ মাসে খামারে ৫০০টি মুরগির বাচ্চা তুলেছেন। তীব্র গরমে তার খামারের ৬০টি বাচ্চা মারা গেছে। এ মাসে তিনি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
তার মতো আরও অনেক খামারি জানান, তীব্র গরমে খামারের পশুপাখি রক্ষায় অনেকটাই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই তাপপ্রবাহ খামারিদের লোকসানের পরিমাণ প্রতিনিয়তই বাড়াচ্ছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফুলবাড়ী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘উপজেলায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ৭ মেগাওয়াট। রাতে চাহিদা বেড়ে ১০ মেগাওয়াট হয়। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে ফুলবাড়ীতে আপাতত কোনো লোডশেডিং নাই।’
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাত হলে গরমের অনুভূতি কিছুটা কমবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন