ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

পর্যটনের স্বর্গে অব্যবস্থাপনা

মুমিনুল ইসলাম, ধামইরহাট (নওগাঁ)
প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৬:৩৬ এএম

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার সীমান্তঘেঁষা আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। শালবন, বেতবাগান ও ৪৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক আলতাদিঘিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ উদ্যান প্রতি বছর হাজারো পর্যটককে আকর্ষণ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে এর পরিবেশ ও অবকাঠামো।

জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ উদ্যানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ভিড় করেন। বিশেষ করে ঈদ ও সরকারি ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া উপস্থিতি দেখা যায়। তবে পর্যটন সম্ভাবনার পাশাপাশি উদ্যানটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা উদ্বেগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা শহর থেকে উদ্যানে যাওয়ার প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়কটি অত্যন্ত সরু। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি বা মাইক্রোবাস চলাচল করতে পারলেও যাত্রীবাহী বাস চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হয়। অনেক সময় বাস থেকে নেমে পর্যটকদের হেঁটে উদ্যানে প্রবেশ করতে হয়। ছুটির দিনে যানবাহনের চাপে সড়কটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

উদ্যানের অন্যতম আকর্ষণ প্রায় ৭০ ফুট উঁচু ওয়াচ টাওয়ারও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের অভিযোগ, টাওয়ারটির বিভিন্ন স্থানে গার্ড রেলিং ভেঙে গেছে কিংবা চুরি হয়ে গেছে। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী টাওয়ারে উঠে উদ্যানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। কিন্তু ভাঙা রেলিং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে সংস্কারকাজের সময় দিঘির চারপাশের অনেক পুরোনো গাছ কাটা হয় এবং দিঘি খনন করে পাড় বাঁধাই করা হয়। তবে এরপর থেকে ৪৩ একর আয়তনের দিঘিটি বর্ষা ছাড়া বছরের অধিকাংশ সময়ই শুকনো থাকে। ফলে উদ্যানের সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

এদিকে নতুন করে রোপণ করা গাছগুলোরও স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। উদ্যান এলাকায় গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণে অনেক চারা গাছ নষ্ট হচ্ছে। দিঘির পশ্চিমাংশ এখন অনেকটা গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। পশুর বর্জ্যে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চলাচলেও বিঘœ ঘটছে।

সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দিঘির চারপাশের পর্যটক চলাচলের রাস্তা ও পাড়ের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্তত ৫ থেকে ৬টি স্থানে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া দিঘির চারপাশের ঢালাইকৃত রাস্তার কিছু অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যানে যেকোনো উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ হতে হবে পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং পর্যটকবান্ধব। একই সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করে উদ্যানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বন বিভাগের বিট রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরহাদ জাহান বলেন, সমস্যাগুলোর বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। লোকবল সংকটের কারণে অনেক বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সমস্যা সমাধানের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জাতীয় উদ্যানের সৌন্দর্য ও সম্পদ রক্ষায় জনসাধারণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।