ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

তীব্র দাবদাহে প্রাণ জুড়াচ্ছে কচি তালের শাঁস

সুজন কুমার কর্মকার, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম

জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে যখন ওষ্ঠাগত জনজীবন, তখন কুষ্টিয়ার শহর থেকে গ্রাম সবখানেই প্রাণ জুড়াতে কদর বেড়েছে কচি তালশাঁসের। বাজারে পর্যাপ্ত আমদানি থাকলেও তীব্র গরমকে পুঁজি করে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে প্রকৃতির এই রসালো ফল। ডাবের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় সম্পূর্ণ কেমিক্যাল ও ভেজালমুক্ত এই তালশাঁসকেই এখন বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছে সব বয়সি তৃষ্ণার্ত মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুষ্টিয়া শহরের প্রধান সড়ক এনএস রোড, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে ভ্যানে করে তালের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বাইরে প্রচ- রোদ ও ভ্যাপসা গরমের কারণে দোকানগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, গরম যত বাড়ছে, তালশাঁসের চাহিদাও তত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বর্তমানে আকারভেদে প্রতিটি কচি তাল (যার ভেতরে তিনটি শাঁস থাকে) বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। আবার অনেক জায়গায় প্রতি পিস শাঁস খুচরা ১০ টাকা দরেও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তালেরশাঁস কিনতে আসা শামীম নামের এক পথচারী বলেন, ‘বাইরে প্রচ- গরম। বর্তমানে বাজারে ডাবের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সেই তুলনায় তালের শাঁস অনেক সাশ্রয়ী। তা ছাড়া এটি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত হওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে কেনা যায়।’

তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার পাইকারি বাজারে তালের দাম কিছুটা বেশি। ব্যবসায়ী শহীদুল জানান, তারা খুব ভোরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে গাছচুক্তি কচি তাল সংগ্রহ করে শহরে নিয়ে আসেন। সেগুলো সড়কের মোড়ে মোড়ে বসে আকারভেদে বিভিন্ন দামে কেটে কেট বিক্রি করেন।

পাইকারি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত বছর ১০০টি কাঁচা তাল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় কেনা গেলেও এবার তা কিনতে হচ্ছে ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায়। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ যুক্ত হওয়ায় খুচরা বাজারে দামের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদায় কোনো কমতি নেই।

চিকিৎসকদের মতে, কচি তালের শাঁসের জলীয় অংশ তীব্র গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দ্রুত দূর করতে চমৎকার কাজ করে। ডাবের বিকল্প হিসেবে এটি পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন ‘সি’র দারুণ উৎস, যা লিভার সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি হজমের সমস্যা দূর করে। তবে সুস্থতার জন্য এটি অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।