ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

মাদকের বিরোধে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৬:২১ এএম

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদকের বিরোধকে কেন্দ্র করে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘি সংলগ্ন বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার আবুল কালাম হাজি বাড়ির মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় মো. হারুন (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হারুন একই গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল জানান, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘির পেছনের একটি পোলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদকের কারবার চলত। কয়েক দিন আগে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানান। পরে স্থানীয় তরুণরা মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ করে ওই এলাকায় পাহারা বসান। তিনি জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে আলী হায়দার ফাহিম, রিফাত, সাকিবসহ কয়েকজন বায়তুন আমান মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় হারুনের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আলী হায়দার ফাহিম ছুরিকাঘাতে আহত হন, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

নোবেল আরও জানান, আরাফাত হোসেন ফাহিম তার নানার বাড়ি দেবিসিংহপুরে বেড়াতে এসেছিলেন। সেখান থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘি এলাকায় একা পেয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ কয়েকজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে গুরুতর অবস্থায় পড়ে থাকলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূলহোতা হিসেবে হারুনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তাক্ত ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।