ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

অনিশ্চিত চা বিক্রেতার মেয়ের মেডিকেল পড়া

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৬:২২ এএম

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় চা বিক্রেতার মেধাবী মেয়ে মাহমুদা খাতুনের মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা টাকার অভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাহমুদা খাতুনের বাড়ি উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে। তার বাবা মাসুদ রানা একজন চা বিক্রেতা এবং মা সায়েরা বিবি গৃহিণী। পরিবারের দুই মেয়ের মধ্যে মাহমুদা বড়।

মাহমুদা ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ পান। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান পরিবার।

মাহমুদার বাবা মাসুদ রানা বলেন, তিনি প্রতিদিন চা বিক্রি করে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন, যা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। মেয়ের মেডিকেল ভর্তি বাবদ ধার করে ১৩ হাজার টাকা জোগাড় করতে হয়েছে। এখন বইপত্র, একটি স্কিলেটন (কঙ্কাল মডেল), হোস্টেল ও মাসিক খরচসহ বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন, যা বহন করা সম্ভব নয়।

মাহমুদার মা সায়েরা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের কোনো জমিজমা নেই। ছোট একটি কাঁচা ঘরে তারা বসবাস করেন। মেয়ে ছোট থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী এবং ডাক্তার হয়ে গরিব মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখে। মাহমুদা খাতুন জানান, ক্লাস শুরু হয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় বই ও শিক্ষা উপকরণ না থাকায় পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। একটি স্কিলেটন কিনতেও অর্থের অভাবে অসুবিধা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন বলেন, মাহমুদা ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠেছে। অনেক সময় অন্যের বই ধার করে পড়াশোনা করেছে। তার বাবা চা বিক্রি ও দৈনিক শ্রমের মাধ্যমে সংসার চালান।

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন, বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার চেষ্টা করা হবে। একইসঙ্গে তিনি সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।