হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীতে আলু বেচাকেনা ও সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এর ফলে জেলার ৩৬টি কোল্ড স্টোরেজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে আলুর দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সংগঠনটির সভাপতি আহাদ আলী শাহ জানান, হিমাগার মালিকেরা আলু সংরক্ষণের জন্য বস্তাপ্রতি ৪৭৫ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছেন, যেখানে তাদের প্রকৃত পরিচালন ব্যয় বস্তাপ্রতি ১০০ টাকার বেশি নয়। এই ‘অযৌক্তিক’ ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবিতে গত ১৯ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরও কোনো সমাধান না মেলায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পবা উপজেলার সরকার কোল্ড স্টোরেজ ও উত্তরা কোল্ড স্টোরেজে গিয়ে দেখা যায়, হিমাগার থেকে আলু বের করার কোনো কার্যক্রম নেই। সাধারণত দৈনিক যেখানে ৩৬ হাজার বস্তা আলু বাজারে সরবরাহ হওয়ার কথা, সেখানে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হিমাগারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না করা হলে বাজারে আলুর তীব্র সংকট দেখা দেবে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
অন্যদিকে হিমাগার মালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ, শ্রমিক মজুরি ও আনুষঙ্গিক পরিচালন ব্যয় বাড়ায় ভাড়ার হার কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে। কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য খন্দকার আউলিয়া রাজিব ওয়াহিদ বলেন, গত বছর চাষিদের দাবির মুখে অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ব্যয় বাড়ার কারণে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা মার্কেটিং অফিসার সানোয়ার হোসেন বলেন, ব্যবসায়ী সমিতি ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছে। কিন্তু সরকার চলতি মৌসুমের জন্য আলুর কোনো আনুষ্ঠানিক দাম নির্ধারণ না করায় প্রশাসনিকভাবে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

