নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সি এক শিশু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোহন তালুকদারের (২৫) বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত মোহন তালুকদার মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের আহ্বায়ক সোহেল রানা তার পদবি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের সন্ধানে বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী মোহন তালুকদার বাড়িতে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলাসহ দলবদ্ধ ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে শিশুটি এত দিন বিষয়টি গোপন রেখেছিল।
চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে মায়ের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটি ধর্ষণের ঘটনাটি খুলে বলে। পরদিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করার পর তার গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ১৫ মার্চ তারা মোহনগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর গত ২৮ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে গত ২ মে মোহনগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলা দায়েরের দীর্ঘ দেড় মাস পার হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত মোহন তালুকদারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন এবং ঘটনার শুরুতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমার মেয়েটা ছোট মানুষ, কিছুই বোঝে না। তার জীবনটা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা গরিব বলে বিচার পেতে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমি আমার মেয়ের জন্য বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, অভিযুক্ত মোহন তালুকদার মামলা হওয়ার পর থেকেই গাঢাকা দিয়েছেন। তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার না করায় অবস্থান শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

