ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

পছন্দের খেলোয়াড়ের স্টাইলে চুল-দাড়ি কাটতে সেলুনে ভিড়

বিশ্বকাপে খেলোয়াড়ি স্টাইলে মেতেছে তরুণরা

সাখাওয়াত হোসেন, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৪:৫০ এএম

ফুটবল বিশ্বকাপের (ফিফা) ২৩তম আসর এখন সারা বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বলের মাঠে পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দর্শকদের মধ্যে প্রিয় তারকাদের অনুকরণ করার প্রবণতা যেন বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই উন্মাদনা থেকে পিছিয়ে নেই পাবনার ভাঙ্গুড়ার তরুণ ও যুবসমাজও। বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই এখানকার সেলুনগুলোতে চলছে প্রিয় খেলোয়াড়ের মতো করে চুল ও দাড়ি ছাঁটার ধুম।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন সেলুন ঘুরে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। প্রতিটি সেলুনে উপচেপড়া ভিড়। চুল কাটানোর অপেক্ষায় থাকা কিশোর-তরুণদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তুÑ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ কিংবা ফ্রান্স-স্পেনের রক্ষণদুর্গ। সেলুনের চেয়ারে বসা তরুণদের চোখে-মুখে অদ্ভুত এক তৃপ্তি। কারণ, কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা হয়ে উঠবেন প্রিয় খেলোয়াড় নেইমার কিংবা এমবাপ্পের প্রতিচ্ছবি।

পৌর সদরের হয়জদ্দীন মোড়ের সেলুনে আসা মো. রাসেল আহমেদ, খাইরুল ইসলাম ও হাফিজ আল-আফ্রিদী বলেন, বিশ্বকাপ মানেই আমাদের কাছে বাড়তি উত্তেজনা। প্রিয় খেলোয়াড়দের মাঠে আমরা সরাসরি দেখতে পাই না, কিন্তু তাদের স্টাইলটা নিজের ওপর ফুটিয়ে তুলে অনেকটা কাছে পাওয়ার আনন্দ পাই। কিছুটা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও তাতে বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই।

চুল কাটা শেষে আয়নায় দেখে অনেকেই তৃপ্তির হাসি হাসছেন। কেউ কেউ আবার নতুন লুক নিয়ে ছবি তুলে ভিডিও করছেন, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৯৩০ সালে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞ চার বছর পরপর তাদের জীবনে নিয়ে আসে মহামিলনের এক আবহ। ভাঙ্গুড়ায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকই বেশি, যার প্রতিফলন ঘটছে তাদের সাজপোশাক ও হেয়ার স্টাইলে।

সেলুন কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বিশ্বকাপ চলাকালীন তাদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। কারিগররা জানান, নেইমার জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা অন্যান্য তারকা ফুটবলারদের হেয়ার স্টাইলের ছবি নিয়ে তরুণরা তাদের দোকানে আসছেন। নিখুঁতভাবে প্রিয় খেলোয়াড়ের লুক তৈরি করে দেওয়াই যেন এখন সেলুন কারিগরদের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নেইমারের আইকনিক হেয়ার স্টাইল এবং চুলে রঙের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

শুধু সেলুন নয়, ভাঙ্গুড়ার আকাশজুড়ে এখন প্রিয় দলের পতাকার জয়গান। বাড়ি-গাড়ি, মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ঘরের বারান্দাÑ সবই সেজেছে প্রিয় দলের রঙে। ফুটবলকে ঘিরে ভাঙ্গুড়ার হাজার হাজার তরুণের এই আবেগ আর উন্মাদনা প্রমাণ করে, মাঠের খেলাটি শুধু ৯৯ মিনিটের লড়াই নয়, বরং এটি কোটি ভক্তের ভালোবাসার এক অনন্য আখ্যান।