ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন বাড়ির মালামাল স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কিনতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীসহ চারজনকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহের চরপাড়া জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা। তিনি শেরপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ২০২৩ সালে শহরের ময়নার মোড় এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করার পর থেকেই স্থানীয় সাইফুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তি তার সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। নজরুল ইসলাম নিজের পছন্দমতো মালামাল কিনে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় সাইফুল ক্ষুব্ধ হন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে মালামাল না কিনলে বাড়ি নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
এরই মধ্যে গত রোববার বিকেলে পুনরায় হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৫-৭ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও সুইচ গিয়ার চাকু নিয়ে নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাসুমা হায়াত, ভাই আজিজুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহম্মেদের ওপর চড়াও হয়। হামলায় সাকিম আহম্মেদের মাথায় সুইচ গিয়ার দিয়ে আঘাত করা হয় এবং অন্যদেরও এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়।
ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের স্ত্রী মাসুমা হায়াত বলেন, ‘আমি প্রায়ই বাড়িতে একা থাকি। তারা নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিল। রোববার হামলাকারীরা আমাদের ওপর চড়াও হলে আমি বাধা দিতে গিয়ে নিজেও নির্যাতনের শিকার হই। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক ঋণ নিয়ে তিলে তিলে বাড়ি করছি। কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হব, তা কল্পনার বাইরে ছিল। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মালামাল কেনা সংক্রান্ত বিরোধ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম গা ঢাকা দিয়েছেন। তাকেসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

