ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

কাজ বন্ধের নির্দেশ

১২ কোটির সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৪:৫৫ এএম

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান পাঁচটি প্রকল্পের নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নি¤œমানের ইট ও মাটি মিশ্রিত খোয়া ব্যবহারের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়মের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পৌর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে এবং কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭১ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। মেসার্স সিনথিয়া-আলামিন-ও আনিসুর (জয়েন্ট ভেঞ্চার) নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পগুলোর কাজ পেয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুখাফকিরের মোড় থেকে তাড়াশিয়াপাড়া এবং আনন্দনগর ওভারব্রিজ থেকে খুবজীপুর অভিমুখে সড়ক সংস্কার ছাড়াও ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় দেখা যায়, সড়ক সংস্কারের কাজে পুরোনো ইট তুলে তা ভেঙে খোয়া তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই খোয়াগুলোতে প্রচুর মাটি ও বালু মিশিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে সড়কে বিছানো হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের আশায় যখন সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হলো, তখন থেকেই নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি তাদের নজরে পড়ে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তারা জানান, সড়কের দুই পাশে যে এজিং ইট বসানো হয়েছে, তা-ও নি¤œমানের।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মাসুদ রানা মুঠোফোনে জানান, স্থানীয়দের অভিযোগ ও পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা সাময়িকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছি। ত্রুটিপূর্ণ ইট ও খোয়া সরিয়ে ভালো মানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি।

এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, নির্মাণ ও সংস্কারকাজে কোনো রকম অনিয়ম সহ্য করা হবে না। শিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত কাজ বুঝে নেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গুরুদাসপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, অনিয়মের অভিযোগগুলো আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে শিডিউল অনুসরণ করে ভালো মানের ইট, খোয়াসহ যাবতীয় উপকরণের সঠিকতা যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে।