ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

ভাগ্নেকে বিয়ে করলেন মামি শোকে প্রবাসীর আত্মহনন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৪:৫৬ এএম

দীর্ঘ ৯ বছর প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যে সংসারের স্বপ্ন বুনেছিলেন কুয়েতপ্রবাসী আনোয়ার হোসেন (৩৫), সেই সংসার ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ায় অভিমানে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন তিনি। নিজের স্ত্রী ও দূরসম্পর্কের ভাগ্নের অনৈতিক সম্পর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রাণ দিতে হলো এই প্রবাসীকে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামে নিজের বাড়িতেই গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর ধরে কুয়েতে দুম্বা পালন করে উপার্জিত সব অর্থ তিনি স্ত্রী আকলিমা আক্তারের (৩৪) কাছে পাঠাতেন। সেই টাকায় স্ত্রী আকলিমা জমিও কিনেছিলেন। কিন্তু ছয় মাস আগে স্ত্রী আকলিমা স্বামীর দূরসম্পর্কের এক ভাগ্নের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে দুই সন্তানকে রেখে ওই যুবকের সঙ্গে ঘর ছাড়েন আকলিমা। কাকতালীয়ভাবে ওই যুবকের নামও ছিল আনোয়ার।

প্রায় ১০ দিন আগে দেশে ফেরেন প্রবাসী আনোয়ার। দেশে ফিরে তিনি ভেঙে পড়া সংসারটি জোড়া লাগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। বিশেষ করে দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু আকলিমা সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং গত শনিবার স্বামীর কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান। এই ঘটনায় আনোয়ার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষোভ ও অভিমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত প্রবাসীর স্বজনরা আকলিমার প্রতারণাকেই আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ওসি মো. কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।