ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

৪০ বছরের পানি সংকট নিরসনের উদ্যোগ

রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৬:৩১ এএম

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম কুক্যাছড়ি খিয়াংপাড়ার দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে পাড়ার বাসিন্দারা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ঝিরি থেকে কষ্ট করে পানি সংগ্রহ করে আসছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাড়ার মানুষদের প্রতিদিন প্রায় ৪০ ফুট নিচে পাহাড়ি ঝিরিতে নেমে পানি সংগ্রহ করতে হয়। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে।

এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনি বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালকে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রেজাউল করিম, জেলা পরিষদ সদস্য প্রতুল দেওয়ানসহ একটি প্রতিনিধিদল কুক্যাছড়ি খিয়াংপাড়া পরিদর্শন করেন। তারা পানির উৎস ও স্থানীয় পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শন শেষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রেজাউল করিম বলেন, প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বিষয়টি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি। ঝিরি থেকে সোলারচালিত মোটরের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে স্কুলের ছাদে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এতে প্রায় ৫০টি পরিবার সুপেয় পানির সুবিধা পাবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় খিয়াং সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালকেও ধন্যবাদ জানান তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কয়েক দশকের পানি সংকটের অবসান ঘটবে এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষ নিরাপদ ও সুপেয় পানির সুবিধা পাবে।