মেহেরপুরের গাংনীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার নওদা মটমুড়া গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে এগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ধরনের ঘটনায় জেলার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা নওদা মটমুড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের চায়ের দোকানের বেঞ্চের ওপর লাল স্কচটেপে মোড়ানো বোমা ও চিরকুটটি রেখে যায়। বুধবার সকালে দোকান খুললে শরিফুল ইসলাম এগুলো দেখতে পান। খবর পেয়ে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপদে পানিভর্তি পাত্রে সংরক্ষণ করেন।
উদ্ধার হওয়া চিরকুটে সরাসরি হুমকি দিয়ে লেখা ছিল, ‘এই দোকানে বিএনপির কোনো লোক বসবে না। যারা বসবে তাদের সমস্যা আছে। এই গ্রামে বিএনপির নামগন্ধ রাখব না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি পরিকল্পিত গোষ্ঠী রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং নির্দিষ্ট দলের নেতাকর্মীদের মনে ভীতি সঞ্চারের জন্য এই ধারাবাহিক নাশকতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। দ্রুত এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গাংনী থানার ওসি মুজাদ্দিদ মোর্শেদ ঘটনাস্থল থেকে হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।
চলতি মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় অন্তত ২৫-৩০টি স্থানে হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে, যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

