বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কাঠমিস্ত্রি ও নৌকা তৈরির কারিগররা। বর্ষা মৌসুমে কারিগরদের ডেকে পুরোনো নৌকা মেরামত করছেন কেউ কেউ। আবার কেউ খেয়া পারাপারের জন্য নতুন নৌকার ফরমাশ দিচ্ছেন কারিগরদের কাছে।
সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার মৌসুম ঘিরে নৌকা তৈরির কারিগরদের মধ্যে নতুন নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। কাঠমিস্ত্রির কেউ কাঠ চিরছেন, কেউ তৈরিকৃত নৌকায় আলকাতরা লাগাচ্ছেন, আবার কেউ রান্দা দিয়ে কাঠ মসৃণ করছেন। অনেকে আবার ব্যস্ত হাতে তক্তা জোড়া দিচ্ছেন। আবার কেউ জোড়াতালি দিয়ে নৌকাকে নতুন করে নদী-বিলে নামানোর উপযোগী করে তুলছেন। সব মিলিয়ে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকার কারিগররা।
জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা বড়াল ও গুমানী নদী এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলের জেলেরা বর্ষায় নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করেন। বর্ষা শুরুর আগেই নদীতে নামার প্রস্তুতি হিসেবে এ সময় নৌকার চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বর্তমানে বেশিরভাগ এলাকার বড় বড় রাস্তাগুলো পাকা। স্বল্প দূরত্বের নৌ-পথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ইঞ্জিনচালিত স্টিলবডির জলযানের ব্যবহারসহ নানা কারণে নৌকার চাহিদা কমে গেছে। পাশাপাশি নদীতে সেতু নির্মাণে উপজেলার অধিকাংশ খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে খেয়া নৌকার চাহিদা শূন্যের কোটায় গিয়ে পৌঁছেছে। তবে জেলেদের ওপর নির্ভর করেই টিকে আছে এই শিল্প।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার অধিকাংশ কাঠমিস্ত্রি জানান, সারা বছর কাজ না থাকলেও বর্ষা মৌসুমে তাদের হাতে কাজের অভাব থাকে না। তবে এবার কাঠ, লোহা, আলকাতরাসহ অন্যান্য উপকরণের দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণও কমে গেছে। কালের বিবর্তনে অনেকেই এই পেশা বা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। দূরের যাত্রার জন্য কেউ বড় নৌকা তৈরি করতে চান না। শুধু বর্ষায় গ্রামের এপাড়া থেকে ওপাড়া যাতায়াতের জন্য ছোট ছোট নৌকার প্রয়োজন হয়।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার কালীবাড়ি এলাকায় নৌকা কিনতে আসা চলনবিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের নুরুজ্জামান সবুজ মাস্টার বলেন, চলনবিল অধ্যুষিত আমাদের গ্রামটি সামান্য বর্ষাতেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বর্ষার সময় একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা। নৌকা তৈরির সরঞ্জামের দাম বাড়লেও এ বছর নৌকার দাম বাড়েনি বলে মনে করেন তিনি।

