ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

তিস্তাপাড়ে হাজারো মানুষের আলোর মিছিল

রংপুর ব্যুরো
প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৩:৪৮ এএম

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এবং জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রকল্পটির বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিস্তা তীরবর্তী আটটি স্থানে একযোগে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’। গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে তিস্তাপাড়ের হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশগুলোতে সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ দাবি জানান যে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা যেন দ্রুত একনেকÑ এ অনুমোদিত হয় এবং প্রকল্পটির জন্য একটি সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়। বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য এই মহাপরিকল্পনা কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং এটি নদীভাঙন রোধ, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদী খনন, শাখা-উপনদী পুনরুজ্জীবন, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিল্পায়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করার একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ। তারা দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে এবার কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাবাজারে আয়োজিত প্রধান সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় সংসদে দেওয়া ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়নই হবে তিস্তাপাড়ের মানুষের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, এখন প্রয়োজন দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা। সমাবেশ শেষে মশাল প্রজ্বলনের মাধ্যমে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে আলোর মিছিল বের করা হয়।

প্রসঙ্গত, ‘পদ্মা হলে তিস্তা নয় কেন’ স্লোগানকে সামনে রেখে পুরো জুন মাসজুড়ে নিজস্ব অর্থায়নে সংগঠনটি সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, হাটসভা, উঠান বৈঠক, বিক্ষোভ ও মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করেছে।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুরের বিভিন্ন স্থানেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে একই দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আগামীতে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।