প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই)-এর প্রধান কার্যালয়ে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক জাতীয় গাছের পরিবর্তে প্রকৃতিতে কার্যকর ও শোভাবর্ধনকারী মিশ্র উদ্ভিদ, মসলা, ঔষধি এবং ফলদ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বারির মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মনজুরুল কাদির। এ বছর কর্মসূচির প্রতিপাদ্য হলোÑ ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই, অভিযোজনই হোক কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠ সাফল্য।’
উদ্বোধনকালে মহাপরিচালক বলেন, কার্বন ক্রেডিট অর্জন এবং মৌমাছির আবাসস্থল সৃষ্টির মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সরকারের একটি অত্যন্ত দূরদর্শী উদ্যোগ। মৌমাছির আবাসস্থল তৈরির ফলে কৃষকরা মধু ও মোম আহরণ করে বাড়তি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া মৌমাছির স্বাভাবিক পরাগায়ন নিশ্চিত হলে ফল, সবজি ও তৈলবীজের উৎপাদন ২০ শতাংশ থেকে বহুগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কর্মসূচির আয়োজক আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহা. মাসুদুল হক ঝন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা এবং এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। সরকারের এই টেকসই কর্মসূচির মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা রুখতে প্রচলিত কৃষিবিজ্ঞানের সঙ্গে এখন এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও ডেটা-চালিত প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বারির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. রেশমা সুলতানা, পরিচালক (গবেষণা উইং) ড. ফারুক আহমদ এবং পরিচালক (উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র) ড. কাউছার উদ্দিন আহম্মদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীগণ উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মসূচির আওতায় বিএআরআই সারা দেশের বিভিন্ন কেন্দ্র ও আঞ্চলিক স্টেশনে ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে সাড়ে ৭ লাখ এবং সূচনা বছরে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ ও বিতরণ করবে।

