ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে চারজনই মারা গেছে। অপর জীবিত শিশুটিও বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে জন্ম নেওয়া এবং ওজন অত্যন্ত কম হওয়ায় এই করুণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রসব বেদনা নিয়ে নগরকান্দা উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান ডলারের স্ত্রী চাঁদনী বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তির পর ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে অস্ত্রোপচার ছাড়াই তিনি একে একে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকদের মধ্যে তিনটি ছেলে ও দুটি মেয়ে ছিল।
হাসপাতালটির লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স মিনতি সরকার জানান, ভ্রুণের পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার জন্য সাধারণত ৪০ সপ্তাহ সময় প্রয়োজন, কিন্তু এই শিশুগুলো মাত্র ২৮ সপ্তাহ বয়সে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। জন্ম নেওয়া শিশুগুলোর ওজন ছিল মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের মধ্যে। এমনকি কিছু শিশুর চোখও পুরোপুরি ফোটেনি। গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত একে একে চারটি শিশু মারা যায়।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. পৃথ্বীরাজ পাল চৌধুরী জানান, শিশুগুলোর অবস্থা শুরু থেকেই অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল এবং তাদের এনআইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। হাসপাতালের পক্ষ থেকে শিশুগুলোকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও পরিবারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এদিকে, সন্তানদের জন্মের পর মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকেও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স শিল্পী আক্তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জন্মের পরপরই একটি শিশু মারা যায়। এরপর পর্যায়ক্রমে রাত ও শুক্রবার সকালের মধ্যে আরও তিনটি শিশু মৃত্যুবরণ করে। বর্তমানে একটি শিশু বেঁচে থাকলেও তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারসহ পুরো এলাকায়।

