সাভারে কিশোর রিপন দাসকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মাহাবুব হোসেন সামিরকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সদরঘাটের জংশন রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাহাবুব হোসেন সামির সাভার থানা ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, সামিরের অবস্থান শনাক্ত করতে বেশ কিছুদিন ধরেই তার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরের স্বজন ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন জুনিয়র-সিনিয়র দ্বন্দ্বের জের ধরে রিপন দাসকে সাভারের রাজাসন এলাকা থেকে তুলে নিয়ে সামিরের অফিসে আটকে রাখা হয়। সেখানে ঘরের দেয়ালের সঙ্গে মাথা ঠুকে এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করে নির্যাতনের পাশাপাশি তার দুই চোখ উপড়ে ফেলার মতো বর্বরতা চালানো হয়। এ ঘটনায় রিপনের বোনজামাই স্বপন সূত্রধর বাদী হয়ে গত ২৫ জুন সামিরকে প্রধান আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
রিপন নির্যাতন ছাড়াও সামিরের বিরুদ্ধে সাভারে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ রয়েছে। গত ১২ জুন লাবনী বেগম নামের এক নারী বাদী হয়ে সামিরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সামির ও তার সহযোগীরা শামীম রেজার বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও লাঞ্ছিত করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় ওই বাড়ি থেকে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা, ক্যাশবাক্স থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং গ্যারেজ থেকে অন্তত ১৮টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ১৪ লাখ টাকার ব্যাটারি ও ছয় লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং পরিচালনার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে এবং এলাকাবাসী তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

