ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

তালগাছ ছেড়ে নারিকেল গাছে বাবুই পাখির বাসা, দর্শনার্থীদের ভিড়

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৬:৫৪ এএম

এক সময় বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির চিরচেনা ও অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল উঁচু তালগাছের মাথায় বাবুই পাখির নিপুণ বাসা। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে জলবায়ু পরিবর্তন ও তালগাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে সেই পরিচিত দৃশ্য। তবে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে বাবুই পাখি তার আবাসস্থল পরিবর্তনের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের হিজলী পাবনাপাড়া গ্রামে তালগাছের পরিবর্তে নারিকেল ও খেজুর গাছে বাসা তৈরি করেছে বাবুই পাখি। আর এমন ব্যতিক্রমী ও বিরল দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মালঞ্চি বাজার-সোনাপুর সড়কের হিজলী পাবনাপাড়া এলাকার হাড়িয়া বিলসংলগ্ন লুৎফর শেখের বাড়ির নারিকেল ও খেজুর গাছে ঝুলছে অর্ধশতাধিক বাবুই পাখির বাসা। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষজন গাড়ি থামিয়ে এই নান্দনিক দৃশ্য উপভোগ করছেন। অনেকে আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রায় দুই মাস আগে বাবুই পাখিগুলো গাছ দুটিতে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। প্রবীণরা জানান, দীর্ঘ জীবনে তারা আগে কখনো নারিকেল বা খেজুর গাছে বাবুই পাখির এমন বাসা দেখেননি।

বাড়ির মালিকের পুত্রবধূ নদীয়া আক্তার বলেন, ছোটবেলা থেকে জানতাম বাবুই পাখি শুধু তালগাছেই বাসা বাঁধে। কিন্তু আমাদের বাড়িতে নারিকেল গাছে বাসা বাঁধার বিষয়টি সত্যিই অবাক করার মতো।

স্থানীয় দর্শনার্থী সুইট বলেন, ইউটিউবে এমন দৃশ্য দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে নিজের এলাকায় দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বাসাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করতে এই বাবুই পাখিগুলোর সুরক্ষা এখন স্থানীয়দের কাছে একটি নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তালগাছ হারিয়ে গেলেও বাবুই পাখির এই টিকে থাকার লড়াই পরিবেশপ্রেমীদের মনে নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, মূলত পরিবেশগত পরিবর্তন ও প্রথাগত তালগাছের সংকটই পাখিদের এই নতুন আবাসস্থল নির্বাচনে বাধ্য করেছে। এটি তাদের পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন ক্ষমতারই একটি বড় নিদর্শন। তিনি পাখিদের বিরক্ত না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।