ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

রাস্তায় ফেলে যাওয়া সেই বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৭:০০ এএম

জীবনের শেষপ্রান্তে এসে মানুষ সবচেয়ে বেশি আশ্রয় খোঁজেন নিজের সন্তান ও স্বজনদের কাছে। কিন্তু টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনের ভাগ্যে জুটেছে চরম নিষ্ঠুরতা। যে মানুষটি সারাজীবন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সন্তানদের বড় করেছেন, বার্ধক্যের ভারে ন্যুব্জ হয়ে ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে আজ তিনি নিজের পরিবারের কাছেই অপাঙক্তেয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বৈল্লা বাজারসংলগ্ন সেতুর পাশে কান্নারত অবস্থায় এই অসহায় বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তার জীবন নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং ছোট ছেলে আলাদা সংসার করেন। জীবনের শেষ সম্বলটুকু মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে দুই ছেলের নামে লিখে দেওয়ার পর থেকেই তার সংসারে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

প্রতিবেশীরা জানান, তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বড় ছেলে শামসুলের বাড়িতেই বসবাস করতেন। ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে নাতনি ও তার স্বামী থাকতেন। কিন্তু তারা বৃদ্ধ দাদার দেখাশোনা করতে চাননি। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নির্জন রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান তারা। দীর্ঘ সময় সেখানে বসে কান্না করছিলেন দৃষ্টিশক্তিহীন এই বৃদ্ধ। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং খবরটি পৌঁছায় টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে।

বিষয়টি জানার পর প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনকে বৃদ্ধকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়। এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

শুধু উদ্ধারেই থেমে থাকেননি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনের চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থাসহ তার থাকার জন্য আলাদা কক্ষ ভাড়ার খরচও নিয়মিত বহন করবেন বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর মানবিক এমন উদ্যোগে বৃদ্ধের মেয়ে রিনা বেগম বাবার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা আমাদের আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন আমি বেঁচে আছি, এই বৃদ্ধের চিকিৎসা ও সব দায়িত্ব আমার। যারা তাকে এভাবে পরিত্যাগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’