ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

প্রাণহানি এড়াতে শতবর্ষী ৩৩টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৭:২১ এএম

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রেলওয়ের আওতাধীন ৩৩টি শতবর্ষী ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝড়ো বাতাসে এসব বিশাল আকৃতির গাছের ডালপালা ভেঙে পড়া এবং গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিভাগীয় বন বিভাগ গাছগুলো কাটার অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও শহরের সৌন্দর্য বজায় রাখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শহরজুড়ে ৫ হাজার গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৮৭০ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বৃহৎ কারখানা সৈয়দপুরে প্রতিষ্ঠার পর ব্রিটিশ শাসনামলে পরিকল্পিতভাবে এই শহর গড়ে ওঠে। তখন শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসস্থানের সুবিধার্থে রাস্তাঘাটের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হয়। ওই সময়ে রোপণ করা রেইনট্রি ও পাকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিশাল আকৃতির গাছগুলো আজও শহরের ঐতিহ্য বহন করছে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বয়সের ভারে এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে এসব গাছের অনেকগুলোই চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সৈয়দপুর রেলওয়ের অফিসার্স কলোনি, সাহেবপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, মুন্সিপাড়া, হাতিখানা, আতিয়ার কলোনি, গোলাহাট ও বাঁশবাড়ী এলাকা মিলিয়ে রেলওয়ে কলোনিগুলোতে প্রায় এক হাজার পুরোনো গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি গাছকে বিশেষজ্ঞ দল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব গাছের অধিকাংশের গোড়া মাটির নিচ থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অনেকগুলো মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপত্তি ঘটাতে পারে।

এদিকে গত মে থেকে চলতি জুলাই মাসে দমকা হাওয়ায় অফিসার্স কলোনিতে বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়কের বাসভবনের সামনে দুটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনায় সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর আগে পাঁচমাথা মোড়ে একটি রেইনট্রি এবং ৩০ জুন জিআরপি মোড়ে আরও একটি গাছের বড় অংশ ভেঙে পড়ে। সবশেষ ১০ জুলাই রাতে ব্যস্ততম বিমানবন্দর সড়কের লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে একটি শতবর্ষী পাকুর গাছের বিশাল ডাল ভেঙে পড়ার পর জননিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারি গাছ কাটার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ১৮ মে সৈয়দপুর রেলওয়ের পূর্ত বিভাগ রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানায়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বন বিভাগের প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শন করে ঝুঁকির সত্যতা পায়। পরবর্তীতে ১১ জুন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে গাছগুলো কাটার অনুমতি দেওয়া হয়।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো যেকোনো সময় উপড়ে পড়ে প্রাণহানির শঙ্কা থাকায় রেলওয়েকে সেগুলো অপসারণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে শহরের পরিবেশ রক্ষায় নতুন গাছ রোপণ নিশ্চিত করতে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি।

সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম জানান, পথচারী এবং কলোনিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। এই নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই আমরা ঝুঁকির মুখে থাকা গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই সঙ্গে আমরা শহরের সবুজায়ন ফিরিয়ে আনতে এবং সৌন্দর্য বর্ধনে প্রায় ৫ হাজার নতুন গাছের চারা রোপণেরও বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যা অচিরেই বাস্তবায়ন করা হবে।