× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ

রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৬:৫৬ এএম

পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যার পানি নেমে গেলেও কাটেনি মানুষের দুর্ভোগ। বন্যার ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন করে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট এবং পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এখন স্থানীয়দের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামের ১ হাজার ৪৩৬টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলেও বসতঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমে আছে পুরু কাদার স্তর, যা পরিষ্কার করতে হিমশিম খাচ্ছেন বাসিন্দারা। অধিকাংশ নলকূপ বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দূষিত পানি পানের ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যমুনাছড়ি বমপাড়ার ধর্মীয় যাজক রেভা রবার্ট বম বলেন, ‘বিশুদ্ধ পানি আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। নিরাপদ পানির অভাবে রোগবালাই বাড়ছে, অথচ এখনো অনেক দুর্গম এলাকায় সরকারি বা রাজনৈতিক কোনো সহায়তার পৌঁছায়নি।’

এদিকে বন্যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাঙ্গনেও। ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাদা জমে থাকায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও স্থগিত করতে হয়েছে। অন্যদিকে, কৃষকদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পেঁপে বাগান ও ফসলি জমি নষ্ট হওয়ায় তারা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিলাইছড়ি উপজেলায় প্রায় ২৭৪টি দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, সরকারিভাবে যে ১০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব। তারা ঘর পুনর্নির্মাণ ও কৃষি পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যলাল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ইতোমধ্যে ৮৫০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছানো হয়েছে এবং ২৫০ পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ত্রাণ দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। দ্রুত পুনর্বাসন, কৃষিঋণ প্রদান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে সরকারের কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

ইউএনও মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে সময় লাগছে। পর্যায়ক্রমে সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা অনুযায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!