ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের খেলার স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি সত্যি, তবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহোৎসবে কিন্তু বাংলাদেশের নাম ঠিকই জড়িয়ে আছে। মাঠের ফুটবলে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা না থাকলেও মাঠের বাইরে কাঁপাচ্ছেন একঝাঁক বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পর্দার আড়ালে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বাংলাদেশি ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবীরা, যারা বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা বহন করছেন অনন্য গৌরবের সঙ্গে। এবারের বিশ^কাপের অন্যতম আলোচিত ভেন্যু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার যাত্রা শুরু থেকে লিওনেল মেসিদের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের রূপকথার সাক্ষী ছিল এই ভেন্যু। আর কানসাসের এই সফল কর্মযজ্ঞের পেছনে জড়িয়ে ছিলেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ভলান্টিয়ার। তাদেরই একজন ঐশী, যিনি কাজ করেছেন সরাসরি মিডিয়া সেন্টারে।
বাংলাদেশে মিডিয়া নিয়ে পড়াশোনা করা ঐশী বর্তমানে কানসাসে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। ফুটবলারদের মাঠে নামার সময় যেমন পতাকা হাতে দাঁড়িয়েছেন, তেমনি সামলেছেন দেশ-বিদেশের ফটোসাংবাদিকদের শৃঙ্খলাও। খুব কাছ থেকে বিশ্বকাপ দেখার রোমাঞ্চ ছুঁয়ে গেছে তাকে। শুধু স্টেডিয়ামের ভেতরেই নয়, স্টেডিয়ামের বাইরের উন্মাদনা সামলাতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন বাংলাদেশিরা। স্টেডিয়ামের বাইরে হাজারো দর্শকের জন্য তৈরি করা ফিফা ফ্যান জোনের ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সামলেছেন সাখাওয়াত হোসেন নামে আরেক বাংলাদেশি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের ও ভাষার মানুষের সঙ্গে কাজের এই অভিজ্ঞতাকে এক অনন্য প্রাপ্তি মানছেন তিনি।
অন্যদিকে স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনার গুরুদায়িত্বে ছিলেন কানসাসে অধ্যয়নরত আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী ইজাজ আসিফ, যিনি প্রতিটি ম্যাচই সরাসরি গ্যালারি থেকে উপভোগ করার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারের জন্য অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারী করেছেন। জানা গেছে, কেবল কানসাস ভেন্যুতেই প্রায় ১০ জনের মতো বাংলাদেশি ফিফা ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
এর বাইরে নিউ জার্সি, বোস্টনের মতো মেগা ভেন্যুগুলো ছাড়াও নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরেও দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশিরা। বিমানবন্দরে ডিউটি করা এক বাংলাদেশি ভলান্টিয়ার তো ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের বাবার সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে সর্বমোট কতজন বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান ফিফার তরফ থেকে না পাওয়া গেলেও, বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের সফলতায় বাংলাদেশিদের এই নিঃস্বার্থ অবদান ফুটবল ইতিহাসে এক গর্বের অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন