কানাডায় চলমান ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবেশী দেশটির সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, কানাডার বন ব্যবস্থাপনায় অবহেলার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে বায়ুদূষণের বড় ধরনের প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কানাডার পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্ক আরও বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, কানাডা বনভূমির যথাযথ পরিচর্যা না করায় প্রতি বছর একই ধরনের সংকট তৈরি হচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাসের মুখে পড়ছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
তার ভাষ্য, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের দায় কানাডার ওপরই বর্তায়। তাই বায়ুদূষণ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা কানাডার পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত।
কানাডার শত শত দাবানল থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বড় একটি অংশে ছড়িয়ে পড়ে। বায়ুর মান খারাপ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না গিয়ে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেয়।
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কানাডা সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে জানতে চাইবেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বনাঞ্চল আগের তুলনায় বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ছে, ফলে দাবানলের ঝুঁকি ও বিস্তার উভয়ই বাড়ছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইক ফ্ল্যানিগান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাস দাবানলকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
এদিকে, কানাডার অন্টারিও প্রদেশে চলতি বছরে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। দাবানলের কারণে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওর কলিন্স ফার্স্ট নেশন সম্প্রদায়ের পুরো বসতিই আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড ১১টি নতুন অগ্নিনির্বাপণ বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রেও দাবানলের প্রকোপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লাখ একর ভূমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত এক দশকের গড়ের চেয়ে অনেক বেশি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন