ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

সেতুর অভাবে থমকে জনজীবন

হাবিবুল ইসলাম, ফেনী
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৬:৫৭ এএম

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নÑ এই দুই সীমান্তবর্তী এলাকার মাঝখানে একটি সংযোগ সেতুর অভাবে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন পার করছেন হাজারো মানুষ। খালের ওপর স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বর্ষাকালে এলাকাটি কার্যত মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, চর দরবেশের আদর্শগ্রাম ও মুছাপুরের আদর্শগ্রামের সংযোগস্থলে খাল পারাপারে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে সাঁকো বা কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিলেও বর্ষায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কৃষিপণ্য বাজারজাত থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে স্থানীয়দের পোহাতে হয় চরম বিড়ম্বনা।

সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। মুছাপুর আদর্শগ্রামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষার্থীদের নদী পার হয়ে চর দরবেশের স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে হয়। স্থানীয় আদর্শগ্রাম দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু তৈয়ব বলেন, ‘ব্রিজের অভাবে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারে না। এতে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে এবং নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে না পারায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।’

স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া স্থানীয়দের জন্য এখন ভাগ্যের ব্যাপার। কোনো মুমূর্ষু রোগী বা গর্ভবতী মাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ নেই। খাটলিতে করে কাঁধে বহন করে মাইলের পর মাইল হেঁটে মূল সড়কে পৌঁছাতে হয়। ফলে সঠিক সময়ে সেবা না পেয়ে অনেক রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন হেলাল ও ৯০ বছর বয়সি নুর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি সেতুর জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করছি। আমরা আর আশ্বাস চাই না, দ্রুত টেকসই ব্রিজ নির্মাণ চাই।’

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করছেন, এই একটি ব্রিজ বদলে দিতে পারে হাজারো মানুষের জীবনমান, যা এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকা-ে গতি ফেরাবে।

এ বিষয়ে চর দরবেশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী খাল হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে একটি সেতুর প্রয়োজন থাকলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ব্রিজটি নির্মিত হলে দুই উপজেলার মধ্যে অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরি হবে।’