× UCB Sticker Card
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

আনোয়ার চৌধুরী রিপন, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা)

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০২:৫৩ এএম

দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায়  নির্যাতনের শিকার ৬ যুবক

আনোয়ার চৌধুরী রিপন, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা)

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০২:৫৩ এএম

দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায়   নির্যাতনের শিকার ৬ যুবক

ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় মানবেতর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় যুবক। তাদের মুক্তির জন্য মোট প্রায় দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করায় প্রতিনিয়ত তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা হলেনÑ উপজেলার খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মানিকুল ইসলাম (২০), হারুন রশিদের ছেলে মো. সোহেল (২৭), ছবু মিয়ার ছেলে তাজ মোহাম্মদ (২৫), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২০) এবং লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)।

ভুক্তভোগী মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান জানান, একই গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রায় ৯ মাস আগে তার ভাই সামছুল আলম ২০ লাখ টাকা নেন। পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ছেলেকে লিবিয়ায় পাঠানো হলেও সেখানে তাকে একটি দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলেকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

একই ধরনের অভিযোগ করেন মেহেদী হাসানের বাবা শাহ আলম। তিনি বলেন, প্রায় আট মাস আগে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সামছুল আলমের মাধ্যমে লিবিয়ায় নেওয়ার পর সেখানেও তাকে দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে মুক্তিপণের দাবিতে তাকেও নির্যাতন করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ছয় যুবককে প্রায় আট মাস লিবিয়ায় রাখার পর অন্য একটি দালালচক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। প্রত্যেকের জন্য ২৭ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। দাবীকৃত অর্থ দিতে না পারায় ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হচ্ছে। এসব ভিডিও দেখে পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি জানিয়ে তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে নির্যাতনের ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত সামছুল আলমসহ তার পরিবারের সদস্যরা প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এ ছাড়া লিবিয়ায় অবস্থানরত মানিকুল ইসলামের সঙ্গেও আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। নিজেদের সন্তানদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মাকসুদ আহমেদ বলেন, ‘অবৈধ পথে কে কোথায়, কোন দালালের মাধ্যমে বিদেশে গেছে এবং বর্তমানে কোথায় রয়েছেÑ এ বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা অভিযোগ নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!