ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

ভোলা শহর রক্ষা বাঁধে ধস, পন্টুন স্থানান্তরিত

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৭:১১ এএম

টানা বৃষ্টিপাতে মেঘনা নদীর পানির অস্বাভাবিক চাপ এবং তীব্র স্রোতে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধের ইলিশা এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সিসি ব্লক, যা সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে পুরো ভোলা শহর রক্ষা বাঁধকে।

সদর উপজেলার মেঘনা তীরের অন্যতম ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র ইলিশা। গত ১৪ জুলাই ভোররাত থেকে এই লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় সিসি ব্লকে ধস নামতে শুরু করে। কয়েকদিনের উজানের পানির প্রবল চাপে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চার স্তরের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার শত শত সিসি ব্লক। পাশাপাশি নতুন করে আরও প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দেওয়ায় ভাঙনের আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইলিশার ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও মাছঘাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-ভোলা ও লক্ষ্মীপুর রুটসহ অভ্যন্তরীণ নৌপথের যাত্রীদের চলাচলের প্রধান মাধ্যম ইলিশা লঞ্চঘাটের পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে ঘাটটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘাট এলাকার হোটেল মালিক মো. শাহজাহান, ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন, মো. আনোয়ার হোসেন ও পরিমল বাবুসহ স্থানীয়রা জানান, যেভাবে ভাঙন চলছে, তাতে নদীপাড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নিঃস্ব হয়ে পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।

ইলিশা লঞ্চঘাটের ইজারাদার লুকু চৌধুরী বলেন, লঞ্চঘাট নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ঘাটে লঞ্চ ভেড়াতে না পেরে যাত্রীরা যেমন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, তেমনি ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ছাড়া ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত ইলিশা, রাজাপুর ও কাঁচিয়াÑ এই তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিগত বছরগুলোতেও একই পয়েন্টে সিসি ব্লক ধসের ঘটনা ঘটেছে। তাই কেবল জোড়াতালি দিয়ে নয়, ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় এখনই স্থায়ী ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই যায়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ভোলা আঞ্চলিক বন্দর কর্মকর্তা নির্মল কুমার রায় জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং তাদের নির্দেশেই ভাঙন এলাকা থেকে পন্টুনগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে সংস্কার কাজ চলছে। এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই এলাকায় জরুরিভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হবে।